সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২

কলমাকান্দায় ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস পালিত

কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি :

- Advertisement -

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নাজিরপুর স্মৃতিসৌধে এবং বেলা সাড়ে ১১টায় লেংগুরায় সাত শহীদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। এছাড়া বাদ যোহর লেংগুরা জামে মসজিদে এবং একই সময়ে স্থানীয় মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই দিন বিকেলে বন্যাদুর্গত আশ্রয়হীন দশটি বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য নগদ দশ হাজার টাকা করে ও দুই বান্ডিল টিন এবং বন্যাদুর্গত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

- Advertisement -

এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মানু মজুমদার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হাবিবা রহমান খান শেফালী, নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জনা খান মজলিশ, এমপি পত্মী ক্যামেলিয়া মজুমদার, জেলা পরিষদের প্রশাসক প্রশান্ত কুমার রায়, নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফখরুজ্জামান জুয়েল, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালেক, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. নুরুল আমীন, কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আজাদ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মো. মিজানুর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস প্রমুখ।

এছাড়াও বৃহত্তর ময়মনসিংহের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

- Advertisement -

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সকালে দূর্গাপুরের বিরিশিরি থেকে কলমাকান্দায় পাকহানাদার ক্যাম্পে রসদ আসার খবর পান মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী কমান্ডার নাজমুল হক তারার নেতৃত্বে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা ৩টি দলে বিভক্ত হয়ে নাজিরপুর বাজারের সকল প্রবেশ পথে এম্বুস করেন।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পাকহানাদার বাহিনী না আসায় তাদের এম্বুস প্রত্যাহার করে তারা নিজ ক্যাম্পের পথে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে নাজিরপুর কাচারির কাছে পাকহানাদার বাহিনী তাদের উপর অতর্কিতে গুলি বর্ষণ শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে এই সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ওই সাত মুক্তিযোদ্ধা।

শহীদ যারা হলেন- নেত্রকোণার ডা. আবদুল আজিজ, মো. ফজলুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মো. ইয়ার মাহমুদ, ভবতোষ চন্দ্র দাস, মো. নূরুজ্জামান, দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস ও জামালপুরের মো. জামাল উদ্দিন। সম্মুখ যুদ্ধ শেষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের লেংগুরার ফুলবাড়ী সীমান্তে গনেশ্বরী নদীর পাড়ে ১১৭২নং পিলার সংলগ্ন স্থানে সমাহিত করা হয়।

- Advertisement -

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা সেই স্মৃতি ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে প্রতিবছর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন: কলমাকান্দায় বৃদ্ধার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য পুলিশের

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ

- Advertisment -