সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২

কেন্দুয়ার আলহাজ্ব আতিকুর রহমান ভূঞা একাডেমি জরাজীর্ণ স্কুল ঘরটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় পাঠদান বন্ধ

রাখাল বিশ্বাস, কেন্দুয়া প্রতিনিধি

- Advertisement -

সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠদান করা হতো আলহাজ্ব আতিকুর রহমান ভূঞা একাডেমির টিনসেট স্কুল ঘরটিতে। জরাজীর্ণ ঘরটির টিন ও কাঠ বহু আগেই জীর্ণ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে গত ২৩ জুলাই/২০২২ ইং তারিখ রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বারান্দার টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। এতে ঘরটি আরও নড়বড় হয়ে হেলে পড়ে। এতে যে কোন সময় বিধ্বস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

- Advertisement -

ফলে এটি বন্ধ রেখে স্কুলের অন্যপাশের একটি ঘরে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকগণ। এটি নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসদরের চিরাং সড়কের পাশে অবস্থিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শনিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিনে গেলে বিদ্যালয়টির করুন দৃশ্য চোখে পড়ে। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে একটি ভবন প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। আলহাজ্ব আতিকুর রহমান ভূঞা একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিয়া আক্তার ও সাদিয়া আফরিন বলেন, বহুদিন ধরে ঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করতাম।

কয়েক দিন আগে ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙ্গে ফেলায় স্যারেরা অন্য ঘরটিতে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। নবম শ্রেণির রাহিম মিয়া ও নিশান মিয়া বলেন ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ায় আমরা আতঙ্কে এখানে ক্লাশ করতে পারিনি। সব স্কুলেই ভবন আছে আমাদেরই ভবন নেই। আমাদের দাবী, আমরা সরকারের কাছে একটি বিল্ডিং চাই। সহকারি শিক্ষক অনুকূল চন্দ্র সরকার জানান, কেন্দুয়া পৌরসভাধীন চিরাং সড়ক সংলগ্ন স্থানে ২০০১ সনে আলহাজ্ব আতিকুর রহমান ভূঞা একাডেমী নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়।

- Advertisement -

পরে ২০০৪ সনে জুনিয়র হিসেবে এমপিওভূক্ত হয়ে ২০১৯ সনে হাই সেকশন করা হয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে আট শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলটির শিক্ষার মানসহ খেলাধুলায় প্রশংসিত। ফুটবলে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, উপজেলা পর্যায়েও চ্যাম্পিয়ন এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগীতায় সুনাম অর্জন করেছে। স্কুলটিতে ৪জন অফিস স্টাফসহ ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিয়া হক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক শারমিন রুখসানা জানান, আমাদের স্কুলের পাঠদানের জন্য ২টি টিনসেট ঘর ও ১টি অফিস কক্ষ রয়েছে।

উত্তর পাশের জরাজীর্ণ ১৫০ ফুট দৈর্ঘ ও ২৪ ফুট প্রস্থের ঘরটিতে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির জন্য ৪টি ও নমাজের জন্য ১টি কক্ষ ব্যবহার করা হতো। গত ২৩ জুলাই ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে অন্তত দশ লক্ষাধীক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিলে এখানের পাঠদান বন্ধ রেখে দক্ষিণ পাশের ঘরটিতে ক্লাশ করানো হচ্ছে।

- Advertisement -

সরকারের কাছে তাদের দাবী হেলেপড়া জরাজীর্ণ টিনসেট ঘরটি ভেঙ্গে একটি ভবন তৈরী করে দেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল আলম শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রতি একত্মা পোষণ করে বলেন, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ভবন একান্ত প্রয়োজন। তবে ভবনের জন্য চাহিদা দিতে হবে এবং স্থানীয় এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে ডিওলেটার লাগবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের আবেদন করতে হবে। আমিও সহযোগিতা করব।

আরও পড়ুন: কলমাকান্দায় মুদি ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ

- Advertisment -