Wednesday, December 7, 2022

তৃতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্র নয়নকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা কেন?

থামছেনা মায়ের আহাজারি

- Advertisement -

পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র নয়নকে (১০) ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্কুল ছাত্র হত্যার ঘটনা নিয়ে সমাজের সকল মহলে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। জনমনে প্রশ্নও ওঠেছে কেন এই হত্যা কান্ড। তার উত্তর এখনও মেলাতে পারেনি পুলিশ। নিহত নয়ন কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাও গ্রামের অটো রিকসা চালক ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে। সে পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।

- Advertisement -

রোববার রাত অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে কে বা কারা তাকে ডেকে নিয়ে যায়। সারা রাত নয়ন আর বাড়ি ফেরেনি। নয়নের মা পোষাককর্মী নাজমা আক্তার ছিলেন বাবার বাড়িতে। নয়নের বাবা অটো রিকসা চালিয়ে বাড়িতে এসে দেখে তার ছেলে ঘরে নেই। পরে খুঁজাখুজির পর নয়নকে না পেয়ে এক পর্যায়ে গভীর রাতে তিনি ঘুমিয়ে পরেন। সোমবার সকালে পানগাঁও গ্রামের মঞ্জু মিয়ার নির্মানাধিন বাড়িতে নয়নের রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পায় স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশে খবর দিলে কেন্দুয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার জুনাঈদ আফ্রাদ ওসি মোঃ আলী হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ১০ টার দিকে লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ আশরাফুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, শিশু নয়নের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ১৪টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কেন তাকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়েছে তার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে মা নাজমা আক্তার আহাজারি করছেন আর বলছেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। নয়নের দাদি জহুরা খাতুন বলেন, গোয়াল ঘরে কয়েল জ্বালানোর সময় প্রতিবেশী সবুজ মেম্বারের ছেলে মুরশাহিদ ওরফে মুজাহিদ নয়নকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। সবুজ মেম্বার গংদের সাথে পূর্বের একটি খুনের ঘটনা নিয়ে বিরোধ ছিলো। আমি ছিলাম ওই মামলার স্বাক্ষী। প্রায় সময়েই আমার নাতিকে সবুজ মেম্বারের ছেলে ভয়ভীতি ও মারধর করত।

- Advertisement -

এদিকে পুলিশ সবুজ মেম্বারের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ আলী হোসেন জানান, ময়না তদন্ত শেষে লাশ দাফন কাফনের পর লিখিত অভিযোগ পেলেই মামলা নেব। তবে হত্যাকারীদের খুজে বের করতে তদন্ত চলছে। নয়নের দাফন কাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নয়নের চাচার হাতে তুলে দেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল। তিনি এই শিশু হত্যাকান্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাদেরকে শান্তনা দেন।

আরও পড়ুন: একটি ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করা”একটি সম্প্রদায়কে উদ্ধার করা অসাধারণ-এআইজিপি হাবিব

- Advertisement -
সম্পর্কিত সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ