Wednesday, December 7, 2022

বাপ দাদার বসত ভিটা ছাইড়্যা আমরা এহন যাইয়্যাম কই?

হামলার ঘটনায় মামলার জেরে বসত বাড়িতে আবারো হামলা

- Advertisement -

বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের পায়তারা চালিয়ে প্রতিপক্ষের লাঠিয়ালরা দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে গৌরাঙ্গ পাল ও তার ভাতিজা অসীম পালের বাড়িতে। কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বৃদ্ধ নারী সহ ৪ জনকে। প্রথম দফায় ৮ নভেম্বর হামলার ঘটনায় ওই দিন রাতেই মামলা হয় কেন্দুয়া থানায় কিন্তু দুইদিন পর আদালত থেকে জামিনে এসে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় হামলাটি চালানো হয় মামরার বাদী গৌরাঙ্গ পাল ও স্বাক্ষী অসীম পালের বাড়িতে। হামলায় অসীম পাল তার মা বীনা রানী পাল দুই বোন আলপনা পাল ও চন্দনা পাল সহ ৪ জন আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানেই তাদের চলে চিকিৎসা। হামলার পর পুলিশি অভিযানের ফলে শহিদ ও মিন্টু গংরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

- Advertisement -

দফায় দফায় হামলার ঘটনাটি ঘটে নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার ৬ নং সান্দিকোনা ইউনিয়নের পাইমাসকা গ্রামের গৌরাঙ্গ পাল ও অসীম পালের বাড়িতে। গৌরাঙ্গ পাল আর্তনাদ করে বলেন, যে ভাবে হামলার পর হামলা চালানো হচ্ছে বাপ দাদার বসত ভিটা ছাইড়্যা আমরা এহন যাইয়্যাম কই? তিনি বলেন, বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্যই একের পর এক হামলা করা হচ্ছে। সাফ কাওলা মূলে রেজিস্ট্রি করে খরিদ করা ৪০ শতাংশ জমি তাদের বাঁধার মুখে আবাদ করতে পারছিনা। বুরো ও আমন ফসল দুটিই হাতছাড়া হয়ে গেছে।

এতে আমাদের সারা বছরের খাওন খোরাক চলবেনা। তিনি তাদেরকে বসতবাড়িতে নিরাপদে বসবাস করার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের নিকট আকুতি জানান। মামলার স্বাক্ষী গৌরাঙ্গ পালের ভাতিজা অসীম পাল জানান, তাদের দূরসম্পর্কের আত্মিয় মিন্টু পাল গৌরাঙ্গ পালের বাড়িতেই আশ্রিত হিসেবে থাকেন। মিন্টু পালের মা শিপ্রা পাল ধর্মান্তরিত হয়ে আটি গ্রামে শহিদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ব হন। বর্তমানে তিনি নাম ধারন করেন আসমা আক্তার। গৌরাঙ্গ পাল শিপ্রা পালের কাছ থেকেই ৪০ শতাংশ জমি সাফ কাওলা মূলে রেজিস্ট্রি করে কিনেছিলেন। এখন ওই জমিতে তাদের ওয়ারিশ সম্পত্তি আছে দাবী করে জমিটি আবাদ করতে দিচ্ছেনা মিন্টু পাল ও শহিদ গংরা। তাদের বাধার মুখে গৌরাঙ্গ পাল বোরো ও আমন ফসল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গত ৮ নভেম্বর জমি নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে শহিদ ও মিন্টু পালেরা বাড়িতে হামলা চালায়।

- Advertisement -

ওইদিন রাতেই গৌরাঙ্গ পাল বাদী হয়ে শহিদ ও মিন্টু পাল সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অসীম পাল জানান, আমি ওই মামলার স্বাক্ষী। বৃহস্পতিবার আসামীরা আদালত থেকে জামিনে এসে শুক্রবার শহিদ ও মিন্টুর নেতৃত্বে দলবল নিয়ে আমাদের বসত বাড়িতে এস হামলা চালায়। এতে আমি আমার মা দুই বোন সহ চারজন আহত হই। মামলা দিয়েও তাদের হামলা ঠেকানো যাচ্ছেনা। আমরা এখন যাব কই? আমাদেরকে খুন জখম করে ভিটা বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্যই বার বার হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা বাঁচতে চাই। বাপ দাদার বাড়িতে বসবাস করতে চাই।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে ৬/৭ মাস ধরে বিরোধের ঘটনাটি সামাজিক ভাবে বসে মিমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বার বার। কিন্তু শহিদ ও মিন্টু গংরা আমাদের ডাকে সারা দেয়না। তিনি বলেন, প্রথম হামলার ঘটনায় মামলা হলেও আদালত থেকে জামিনে এসে আবার হামলা করেছে। যা খুবই দুঃখ জনক। এতে নারীরাও আহত হয়েছে। সামাজিক ডাকে না আসলে এখনতো আবার মামলাই হবে। দফায় দফায় হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলী হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবও চেষ্ঠা করেছেন সামাজিক ভাবে বসে আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসা করার। কিন্তু শহিদ ও মিন্টু গংরা কারো ডাকেই সারা দেননা। আমরা আইনগত ভাবে পরিবারটিকে যতটুকু সহযোগিতা দেয়ার তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে চেষ্টা করছি। এদিকে শহিদ ও মিন্টু গংরা হামলার পর থেকে পালিয়ে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: আটপাড়ায় বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে কে হবেন দলের কান্ডারী

- Advertisement -
সম্পর্কিত সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ