সোমবার, জুলাই ৪, ২০২২

বারহাট্টায় ঘুর্নিঝড় অশনির প্রভাবে কৃষকেরা স্বপ্ন ভঙ্গের পথে

লতিবুর রহমান খান, বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

- Advertisement -

নেত্রকোণার বারহাট্টা ঘুর্নিঝড় অশনির প্রভাবে সাধারণ কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গের পথে। কৃষকেরা নানা রঙের স্বপ্ন বুনেছিল
বোরো ধান চাষে বাম্পার ফলনের মাধ্যমে। ফলনও এবারের হয়েছিল অনেক ভাল। এ বোরো
ফসলের চাষ করতে হলে কৃষকের ৩ মাস পূর্ব থেকে নিতে হয় নানা রকমের প্রস্তুতি।

- Advertisement -

প্রস্তুতি হিসেবে তারা প্রথমেই তৈরী করে বীজতলা। বীজতলা তৈরী করার পর বীজ তলায়
তারা বিভিন্ন প্রজাতির ধানের চারা বপন করে। যেমন ব্রি- ২৮, ব্রি- ২৯,
হাইব্রীজ ইত্যাদি। তারপর যখন এ চারা রোপনের উপর্যুক্ত সময় হয় তখন তাদের বোরো
ধান চাষের ক্ষেত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা চারা রোপনের কাজে ব্যস্ত হয় পড়ে।

এ সময় প্রতি কাটা জমি শ্রমিকের মাধ্যমে চারা রোপন করাতে ২০০- ২৫০ টাকা
দিতে হয় মজুরী। জমিতে চারা রোপনের পর শুরু করে তারা নানা ধরণের পরিচর্যার
কাজ। যেমন জমিতে পানি দেওয়া, জমিতে নানা ধরনের আগাছা পরিস্কার করা,
সময়মতো সার ও বিষ প্রয়োগ করা। এ কথায় বলতে গেলে সাধারণ কৃষক ভাইদের
রাতদিন অক্লান্ত হারখাটা পরিশ্রমের বর্ণনা কোন শেষ নেই। সর্বোপরি যখন এ
ফসল কাটার উপর্যুক্ত সময় হয়ে যায়, তখন তাদের ফসল কাটানোর জন্য শমিকের
স্মরণাপন্ন হতে হয়। শ্রমিক সংকটে প্রত্যেক কৃষক পড়ে যায় চরম বিপাকে।
শ্রমিক স্বল্পতার কারণে তাদের চোখের সামনে সোনালী স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ার মতো।

- Advertisement -

শ্রমিক সংকট থাকায় শ্রমিক সর্দার এ সুযোগে বহু কৃষকের জমি কেটে
দেওয়ার কথা বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু সর্দারের শ্রমিকের তুলনায় জমি বেশী হওয়ার
কারণে অঙ্গিকার করায় এ শ্রমিক সর্দার কৃষকের সোনালী স্বপ্ন জমির ধান সময়
মতো কেটে দিতে না পারায় প্রত্যেক সাধারণ কৃষক কঠিন ভূক্তভোগী। আর এবার
অশনি ঘুর্ণি ঝড়ের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকের হাজারো রকমের
প্রতিকুলতার মধ্যে তাদের রোপিত উৎপাদিত সোনালী ফসল বাড়ির আঙিনায় এলেও
সময় মতো ধান শুকানোর কাজ হয়ে পড়েছে অকল্পনীয়। সোনালী ধানের ফসল তাদের
বাড়ীর আঙিনায় চোখের সামনে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বারহাট্টার
কৃষকেরা বর্তমানে দিশেহারা।

রৌহা গ্রামের কৃষক টিপু খান জানান, আমার
পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। এ ৫ জন সদস্যের বছরের খোরাক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে
প্রথম পর্যায়ে ২৫ মন ধান সিদ্ধ দেই। কিন্তু অশণি ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে
মারাত্মক বৈরী আবহওয়ার কারণে সময়মতো সিদ্ধ ধান শুকাতে না পেরে আমার এ ২৫
মন ধান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভোগছি। একই গ্রামের কৃষক হাসমত খান
জানান, ৫০ মন ২৯ ধান মাড়াই করার পর শুকাতে না পারার কারণে না পারছি ধান
বিক্রয় করতে না পারছি ধান গোলাজাত করতে। এ চিত্র শুধু রৌহা গ্রামের চিত্র নয়।
ঘুর্নিঝড় অশনির কবলে পড়ে সারা বাংলার অনেক কৃষকেই রয়েছে এ ধরণের চরম

- Advertisement -

ভোগান্তিতে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রানে তাদের ভরসা এখন একমাত্র আল্লাহ পাক
রাব্বুল আলামিন।
আরো পড়ুনঃ বারহাট্টায় বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ উদ্বোধন

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ

- Advertisment -