শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

বারহাট্টায় ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু, অভিযুক্ত গ্রেফতার

লতিবুর রহমান খান, বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ

- Advertisement -

নেত্রকোনার বারহাট্টায় হাড়ি পাতিল বিক্রেতার ভুল চিকিৎসায় রবিবার (৭ আগস্ট) রাতে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া নবজাতক বারহাট্টা সদর ইউনিয়নের বিক্রমশ্রী নয়াপাড়া গ্রামের রবিন মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত হাড়ি-পাতিল বিক্রেতা মান্নান মিয়াকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

- Advertisement -

জানা যায়, অভিযুক্ত মান্নান মিয়া বারহাট্টা সদর ইউনিয়নের বৃ-কালিকা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বারহাট্টা উপজেলা সদরের আসমা বাজারে প্রধান সড়কের পাশে একটি ঘরে হাড়ি-পাতিল ব্যবসার পাশাপাশি প্রকাশ্যে ডাক্তারি ও কবিরাজি চিকিৎসাদান এবং এন্টিবায়টিকসহ বিভিন্ন প্রকার ঔষধপত্র বিক্রয় করে আসছিলেন। তার প্রাতিষ্ঠানিক কোন পড়া-লিখা নাই। তার দোকানের সামনে প্রতিদিনই মহিলাদের ভীর থাকে।

গত ৬ আগস্ট শনিবার সকালে নবজাতকটির জ্বর ও জন্ডিস দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য মা অজুফা আক্তার শিশুটিকে নিয়ে ওই পাতিল বিক্রেতা মান্নান মিয়ার কাছে আসে। মান্নান মিয়া শিশুটিকে খাওয়ানোর জন্য ওরসেফ নামক একটি ওষুধ দেন। ওরসেফ খাওয়ানোর পর দুপুরের দিকে নবজাতকটির মারাত্মক খিঁচুনির শুরু হয়। পরে শিশুটিকে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। এখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৭ আগস্ট) রাত দশ টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়।

- Advertisement -

ভুক্তভোগী পরিবারটির সাথে কথা বলে জানা যায়- মান্নান মিয়া কোন প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওরসেফ নামক একটি ওষুধ দেন। তার পরামর্শে ওষুধটি খাওয়ানো হয়। কিছুক্ষণ পরেই নবজাতকটির শারিরীক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।

উপজেলা যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম জানান- এই হাড়ি পাতিল বিক্রেতা মান্নান মিয়ার ওষুধ বিক্রি করার কোন লাইসেন্স নাই। কয়েক বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ওষুধ বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়। কয়েকদিন নিষেধ মানার পর তিনি আবার ওষুধ বিক্রি শুরু করেন। আমরা অর্থলোভী মান্নান মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

- Advertisement -

বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফুল হক জানান, নবজাতক শিশুটি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই অভিযুক্ত ওই হাড়ি পাতিল বিক্রেতা মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার বারোটা বেজে গেছে!

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

জনপ্রিয় সংবাদ