সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২

বেতন ভাতা না পেলে কুরবানির ঈদে সন্তানদের কি জবাব দেব?

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, বিশেষ প্রতিনিধি

- Advertisement -

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটি নরেন্দ্র কান্ত উচ্চবিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়ে দ্বন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক কর্মচারিদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুবনা নাসরিন
রানীর পছন্দের সভাপতি না হওয়ায় ঈদেও শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের
বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেতন ভাতা পাওয়ার আসায় তারা
কর্তৃপক্ষের কাছে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। শিক্ষকরা বলছেন,
বেতন ভাতা না পেলে আসন্ন কুরবানির ঈদে আমরা সন্তানদের কি জবাব
দেব? বেতন ভাতার বিষয় নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক
কর্মচারী।

- Advertisement -

শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, ঈদ আগত। কিন্তু আমাদের বেতন
ভাতার কোন খবর নেই। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পছন্দমত
সভাপতি না হওয়ায় মে মাসে শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন ভাতা দিতে
বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সভাপতি হাফিজুর রহমান তালুকদারের সই
স্বাক্ষর নেয়া হয়নি। এদিকে ঈদ-উল-আযহার বোনাস সহ জুন মাসের
বেতন ভাতা ২/১ দিনের মধ্যেই ছাড় দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সে
বেতনভাতারও স্বাক্ষর না নেওয়ায় বেতন ভাতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান তালুকদার
বোরহান বলেন, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন ভাতা

বঞ্চিত হচ্ছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের একগুয়েমি স্বেচ্ছাচারিতার
কারনে। ওই শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন ভাতা না পেলে তারা কি দিয়ে ঈদ
করবে? এমন অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরনের তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবী করি।
এদিকে ০৩ জুলাই রোববার ১৫ জন শিক্ষক কর্মচারীর বেতন ভাতার বিষয়ে
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। তারা এর
আগেও একটি আবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দিয়েছিলেন। সেই
প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন্দুয়াকে তদন্তের জন্য
নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন সহ বেতন ভাতাদি
প্রদানের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর,
মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে মতামত এলেই
তাদের বেতন ভাতা দেয়া সম্ভব হবে।

- Advertisement -

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুবনা নাসরিন রানী বলেন, বোর্ড
যেখানে সভাপতি হিসেবে হাফিজুর রহমান তালুকদারকে অনুমোদন
দিয়েছেন, সেখানে আমার না মানার কোন বিষয় নেই। তবে কমিটির
দুই সদস্য পদত্যাগ করায় আমি মিটিং করতে পারছি না এবং সভাপতির
সাক্ষরও নিতে পারছিনা। যে কারণে আমি সহ শিক্ষক কর্মচারিরা ঈদেও
বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

আরো পড়ুন: কেন্দুয়ায় টাকাসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার, দ্রুত বিচার আইনে মামলা

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ

- Advertisment -