শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

ভোলা দৌড়ানি

রাখাল বিশ্বাস, কেন্দুয়া প্রতিনিধি

- Advertisement -

” ভালা আইয়ে বুরা যায়, মশা-মাছির মুখ পুড়া যায়”
আমাদের গ্রামীণ জীবনাচারে বহুবিদ লোকাচার প্রচলিত আছে; যার অধিকাংশই বর্তমান আধুনিকতার ছুঁয়ায় বিলুপ্ত বা বিলুপ্তির পথে। গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত লোকাচার গুলোকে লোকগবেষকগণ দুই ভাগে বিভক্ত করে দু’টি ধারায় বিন্যাশ করেছেন।

- Advertisement -

এর একটি হলো প্রকৃতগত আর অপরটি হলো মনুষ্য সৃষ্টিগত। প্রকৃতিগত লোকাচার গুলোর মধ্যে অনেক গুলো আবার সর্বজনীন নয়। এর বেশীরভাগ গুলো সনাতন ধর্মীয়দের পার্বনন্তরভূক্ত ধর্মীয় চেতনা জাত দ্যুতনায় পুর্ন। অপরদিকে মনুষ্য সৃষ্টিগত আচার গুলোর মধ্যে অধিকাংশই রূপকার্থে অকৌলিন্যবাদের অন্তর্ভূক্ত।

গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা সেই আচার গুলোকে বিশেষ মর্যাদায়-শ্রদ্ধা, ভক্তি, প্রেম-ভালবাসা এবং ধর্মীয় ভাবনায় পূণ্যলাভার্থে যুগযুগ ধরে সনাতনীয়রা পালন করে আসছেন।
ছয় ঋতুর এদেশে প্রতি ঋতুতেই কোন না কোন আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লোকাচার গুলো পালন করা হতো। এখনো কোন কোন অঞ্চলে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন উপাচারে লোকাচার গুলো পালন করে আসছেন।
সর্বজনীন ভাবে বঙালী ঘটা করে পহেলা বৈশাখে বাংলা বর্ষবরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি করে থাকেন।

- Advertisement -

অপর দিকে হিন্দুজনগোষ্ঠি জ্যৈষ্ঠ মাসে মধুমাস হিসেবে ষষ্ঠীপূজা ও জামাইষষ্ঠী, আষাঢ়ে বর্ষামঙ্গল, শ্রাবনে মনসামঙ্গল, ভাদ্রয় তালের পিঠা উৎসব,আশ্বিনে শারদীয় দূর্গোৎসব, কার্তিকে ভোলাসংক্রান্তি,অগ্রহায়নে আগনবমী ও নবান্নোৎসব,পৌষে পৌষসংক্রান্তি,মাঘে মাঘিপূর্ণিমা ও সরস্বতি পূজা,ফালগুনে দোলোৎসব ও বাসন্তি উৎসব এবং চৈত্রে চৈত্রসংক্রান্তি ও বার্নিমেলাসহ আড়ং,ষাঁড়ের লড়াই,মেষের লড়াই, মহিষের লড়াই,মোরগের লড়াই কুস্তি খেলা ইত্যাদি আচার পালন করে বাঙালী জাতিসত্ত্বার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এসব লোকাচার গুলোর প্রায় সব গুলোই সর্বজনীন ও সম্প্রীতির আবেদন বহন করে।
যুগযুগ ধরে গ্রামীণজনপদে এগুলো সর্বোৎকৃষ্ট ভাবেই পালিত হয়ে আসছে বিশেষ আমেজের চিরায়ত নিয়মে।

আমাদের পূর্বময়মনসিংহের আঞ্চলিকতায় বারো মাসের একটি স্তুতিকথা প্রবচনের মতো প্রচলিত রয়েছে। যেমন-“চৈতে চলিতা,বৈশাখে-নালিতা, জ্যৈষ্ঠে খৈ, আষাঢ়ে-দই,শ্রাবনে-ভোরপান্তা,ভাদ্রে-তালের পিঠা, আশ্বিনে- শশা মিঠা,কার্তিকে-ওল, অগ্রানে-খলিশার ঝুল, পৌষে-পৌষাকাঞ্জি,মাঘে-তেল,ফালগুনে-গুড়-আদা-বেল”।

- Advertisement -

এক সময় গ্রামাঞ্চলের সর্বত্রই মানুষের মুখে প্রবাদ-প্রবচনসহ উপকথা ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হতো কিন্তু এখন আর এর সঠিকরূপ ব্যবহার হয় না। এখন নালিতা শাক চৈত-বৈশাখ ছাড়াও প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়।

যা হোক,বারো মাসের তেরো পার্বনের এদেশে বাঙলা সংস্কৃতির পুরোধা ব্যাক্তি ছিলেন ভারত সম্রাট আকবর। যদিও বাংলা প্রথম মাসের নাম অগ্রহায়ন কিন্তু ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে মোঘল সম্রাট আকবর ও তাঁর পরিষদ পন্ডিতদের আগ্রহে সৃষ্ট ও কার্যকর হওয়া বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখ।বাংলা সাল প্রথম দিকে পরিচিতি ছিল ‘ফসলি সন নামে’। পরে তা জনপ্রিয় হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের গায়ে বাংলা বর্ষের ইতিহাস গভীর ভাবে জড়িত। তাই বাঙালীর সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ন উপাদান হচ্ছে গ্রামীণ লোকাচার গুলো।

তেমনি পূর্বময়মনসিংহে-লড়াই সংগ্রামে,সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, রাজনৈতিক-সামাজিকে,মানবিক ও সম্প্রীতিসহ নানা কারণে নেত্রকোনা জেলার স্বাতন্ত্র শতপূর্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে অনন্য উচ্চতায়। এর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো-নেত্রকোনার ভাষাতত্ত্ব ও লোকাচার। এই লোকাচার গুলো নেত্রকোনার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে নি:সন্দেহে।এই বহুবিদ লোকাচার গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সর্বজনীন ‘ভোলাদৌড়ানী’লোকাচার।

চলবে…

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

জনপ্রিয় সংবাদ