সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২

মদনের সেই স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে পরকীয়া প্রেমিকই দায়ী

সাকের খান, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ

- Advertisement -

নেত্রকোনার মদনে পরকীয়া প্রেমের জেরেই স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বামী। এ ঘটনার ৮ মাস পর বুধবার রাতে (২৯ জুন) অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক রুকেল মিয়াকে আটক করে মদন থানার পুলিশ। অভিযুক্ত রুকেল মিয়ার বিরুদ্ধে মদন থানার এস আই মাসুদ জামালী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।

- Advertisement -

অভিযুক্ত রুকেল মিয়া নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের গাবরতলা গ্রামের ভিক্কু মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে বালালী বাজারে আপেল মাহমুদ এর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছে।

এর আগে ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর সকালে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়র পরিষদ ভবনের সংলগ্ন বালালী গ্রামের নিজ বসত ঘর থেকে হিমা আক্তারের (৪৬) রক্তাক্ত মরদেহ ও স্বামী নান্দু মীরের (৫৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নান্দু মীর (৫৫) উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামের মৃত শামছু মীরের ছেলে। প্রায় ২০ বছর আগে বালালী গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নাফের মেয়ে হিমা আক্তারকে (৪৬) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই নান্দু মীর তার শশুর বাড়ি বালালী গ্রামে বসবাস করছিলেন। দাম্পত্যজীবনে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে ও পাঁচ বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

এ দিকে হিমা আক্তার তার ছোট বোন জামাই আপেল মাহমুদের দোকেনর কর্মচারী রুকেল মিয়ার সাথে পরকীয়া সর্ম্পকে জড়িয়ে পরে। বিষয়টি তার স্বামী নান্দু মীর জানার পর দুইজনের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন কয়েকবার শালিশী বৈঠক করে মীমাংসা করেন। মীমাংসার পরেও পরকীয়া প্রেমিকের সাথে অবৈধ মেলামেলায় চালিয়ে যায় হিমা আক্তার। এই ক্ষোভে স্ত্রীকে রেখে নিজ বাড়ি আলমশ্রী গ্রামে চলে যায় নান্দু মীর। পরে নান্দু মীর ১০ অক্টোবর বাড়িতে এসে ওই রাতেই নিজের বসত ঘরে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন।

- Advertisement -

এ ঘটনার পরদিন নিহত হিমা আক্তারের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। অপর দিকে নান্দু মীরের আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পুলিশের দীর্ঘ তদন্তরে পর ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া প্রেমিক রুকেল মিয়ার নাম প্রকাশ পায়। এতে বুধবার রাতে বালালী বাজারের আপেল মাহমুদের দোকান থেকে অভিযুক্ত রুকেলকে আটক করে মদন থানার পুলিশ। পরে মদন থানার এস আই মাসুদ জামালী বাদী হয়ে রুকেল মিয়ার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। রুকেল মিয়াকে বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন,পুলিশের দীর্ঘ তদন্তের পর স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী আত্মহত্যার প্ররোচনায় পরকীয়া প্রেমিক রুকেল মিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। রুকেল মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃতকে নেত্রকোনার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন: হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝাড়ুদার করেন ডেলিভারির কাজ: নবজাতক হত্যার অভিযোগ

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ

- Advertisment -