শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

মুন্সীগঞ্জে পুলিশ বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

- Advertisement -

মুন্সীগঞ্জের শহরতলীর মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশ ও বিএনপি নেতা কর্মীর সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশ সাংবাদিকসহ প্রায় ৫০জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারীসহ পুলিশের আহতদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বৃধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় পূর্ব নির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা ছিল।

- Advertisement -

সেই ঘোষণা অনুযায়ি বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মিছিল এখানে আসতে থাকে। পুলিশ বিভিন্ন পয়েন্টে মিছিলকারীদের থামিয়ে ফিরিয়ে দিতে থাকে। তাতে আগত মিছিলকারীরা কোন মতে পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় জরো হতে থাকে। বিক্ষোভ এলাকাটিতে পূর্ব থেকে অনুমতি নেয়া বলে জানা গেছে। তবে এখানে প্রায় ২হাজার লোকের সমাবেশ হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে ঘটনার সময়ে প্রায় ৫হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে। সেখানে এতো লোকের সমাবেশ ঘটলেও পুলিশের পরিমাণ ছিল ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো। বিক্ষোভ সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশ বিএনপি নেতা কর্মীদের সমাবেশে নির্ধারিত লোকজন নিয়ে সমাবেশ করতে বলে। কিন্তু এ বিষয়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতাদের সাথে কথাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। বিএনপি সেখানে পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি হিসেবে আগেই ইটপাটকেল জরো করে রেখে ছিলো বলে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তা না হলে এখানে পুলিশ এতো আহত হলো কিভাবে। যেসব পুলিশ আহত হয়েছে তারা সবাই ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছে। এখানে এ ঘটনার সময়ে অপেক্ষমান মোটর সাইকেলে কে বা কাহারা আগুন দিয়ে আতংকের সৃষ্টি করে। এখানে এ সময়ে ডিপি পুলিশের মোটর সাইকেলও খোয়া যায়।
এ ঘটনায় প্রায় ৩৫জন পুলিশ আহত হয়েছে। তারমধ্যে গুরুতর একজন আহত পুলিশকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত পুলিশের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল) মিনহাজ উল ইসলাম ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুজ্জামান। এ আহতদের মধ্যে নারী পুলিশও রয়েছে। পুলিশের অন্যান্য আহতরা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশের গুলিতে বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে চরকেওয়ার ইউনিয়নের গুহেরকান্দি গ্রামের হারুন অর রশিদ সবচেয়ে বেশি আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাকে চিকিৎিসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে তার অবস্থা আশংকাজনক। বিএনপির অন্য আহতরা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল থেকে কোন চিকিৎসা নেননি। তারা গ্রেফতারের ভয়ে অন্যত্র চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

- Advertisement -

পুলিশ বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কালবেলা মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি রুবেল সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছে। তার চোখের নিচের অংশে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে।
পুলিশ বিএনপির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময়ে বৃষ্টির মতো টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ গুলি নিক্ষেপ করে। ঘঁনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

- Advertisement -
এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

জনপ্রিয় সংবাদ