Wednesday, December 7, 2022

শিশু নয়ন হত্যা: প্রধান আসামি মুজাহিদ গ্রেফতার

একটি খুনের ঘটনায় ফাঁসাতে না পেরে এবার শিশু খুন: ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন

- Advertisement -

শিশু নয়ন খুনের পর নিজ জেলা নেত্রকোণা থেকে আত্মগোপন করে পালিয়ে নওগা জেলায় মান্দা উপজেলার তেতুঁলিয়া ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নিলেও ফাঁকি দিতে পারেনি পুলিশের চোখ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ১৯ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে মামলার এজাহার ভূক্ত ১ নম্বর আসামী মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কাজে সহায়তা করে মান্দা থানা পুলিশ।

- Advertisement -

রোববার পুলিশী প্রহরায় মুজাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে নেত্রকোণা আদালতে পাঠানো হয়েছে। নেত্রকোণা শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার শুনানীর দিন ধার্য করে দিয়েছেন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মুজাহিদ গ্রেফতার সহ নয়ন খুনের মামলার আরো ২ জন আসামী আসাদুল ও আবু রায়হান কারাগারে রয়েছে।

কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র ছিল নয়ন। তার বাবার নাম ওয়াদুদ মিয়া। তিনিও পানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। গত ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা রাতে নয়নকে ডেকে নিয়ে যায় একই গ্রামের প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য সবুজ মিয়ার ছেলে মুজাহিদ। ওই দিন নয়নের মা নাজমা আক্তার বাড়িতে ছিলেন না। নয়নের বাবা অটো রিকসা চালক ওয়াদুদ মিয়াও ছিলেন বাড়ির বাইরে। রাতে বাড়িতে এসে দেখেন শিশু ছেলে নয়ন ঘরে নেই। পরিবারের সদস্যরা ওয়াদুদকে জানান, নয়নকে সন্ধ্যা রাতে সবুজ মেম্বারের ছেলে মুজাহিদ ডেকে নিয়ে যায়। পরে নয়নের বাবা অন্যান্য লোকদের নিয়ে সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে গভীর রাতে ঘুমিয়ে পরেন। পরদিন ৭ নভেম্বর সকাল অনুমান ১০টার দিকে পানগাঁও গ্রামের মঞ্জু মিয়ার নির্মানাধিন বাড়ি থেকে শিশু নয়নের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধাঁরালো অস্ত্রের ১৪টি আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ।

- Advertisement -

এ ঘটনায় ৯ নভেম্বর নয়নের বাবা ওয়াদুদ মিয়া বাদী হয়ে সাবেক ইউপি সদস্য সবুজ মিয়ার ছেলে মুজাহিদ (১৫ বছর ৮ মাস) লিটন মিয়ার ছেলে আসাদুল (২৪), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আবু রায়হান (২৪) ও হাদিস মিয়ার ছেলে শফিকুল ওরফে হারাদনের নাম এজাহারে উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১০ নভেম্বর বুধবার রাতে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজার এলাকা থেকে আসাদুল হক ও আবু রায়হানকে গ্রেফতার করে কেন্দুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ ওই দুইজনকেও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে, আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই মোহাম্মদ আলী ও র‌্যাব- ১৪ এর গনমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর খুন হন পানগাঁও গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তার। ওই মামলায় লিটন মিয়া বাদী হয়ে শিশু নয়নের বাবা ওয়াদুদ, তার ভাই, মা, স্ত্রী সহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে কেন্দুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত শেষে মামলার সকল আসামীদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বাদি ও স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়ের করার পরামর্শ জানান আদালতে। বর্তমানে ওই মামলাটি বিচার বিভাগের তদন্তাধিন রয়েছে। মামলার এজহার নামীয় ৩ জন আসামী গ্রেফতার হলেও পলাত রয়েছে শফিকুল ইসলাম ওরফে আরাধন। কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ আলী হোসেন জানান, তাকেও গ্রেফতারের জোর চেষ্ঠা চলছে।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করাই প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

- Advertisement -
সম্পর্কিত সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ