২০১৮ সালের এম.পি.ও নীতিমালায় স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেট অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে

ফারুক আহাম্মেদ

২০১৮ সালের এম.পি.ও নীতিমালায় স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেট অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে

বৈষম্যহীন শিক্ষা জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ অপরিহার্য। শিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত বেসরকারি শিক্ষকরা।শিক্ষা ক্ষেত্রে ৯৭ শতাংশ অবদান রাখছে বেসরকারি শিক্ষকরা আর ৩ শতাংশ অবদান সরকারি স্কুলে চাকুরীরত সরকারি শিক্ষকরা।
শিক্ষাক্ষেত্রে যে অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হচ্ছে তাতে বেসরকারি শিক্ষকদের যে মোটেই অবদান নেই তা অস্বীকার করা যাবেনা। কিন্তু বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে রয়েছে নানান বৈষম্য।

ইতোমধ্যেই ২ বছর পর হলেও বহুল আলোচিত ৫% প্রবৃদ্ধি ও ২৫% বৈশাখী ভাতা পেয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ। এখন শুধু শিক্ষক দের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ। ।এবার আসি বেসরকারি শিক্ষদের উচ্চতর স্কেল প্রসঙ্গত নিয়ে।

বর্তমান নীতিমালায় লেখা আছে, “১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড প্রাপ্য হবেন এবং পরবর্তী ০৬ বছর পর একইভাবে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড প্রাপ্য হবেন কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি এমন কি এর সুস্পষ্ট কোন নীতিমালাও

পাচ্ছেন না শিক্ষরা। ২০১৮ সালে যে এম.পিও নীতিমালা প্রকাশ হয়েছে তাতে সুস্পষ্ট ভাবে লিখা আছে এম.পিও ভুক্তির তারিখ হতে ১০ বছর পর উচ্চতর গ্রেড পাবেন শিক্ষকরা কিন্তু আগের নীতিমালায় ছিল বিএড এর ৮ বছর পর উচ্চতর গ্রেড। এ নিয়ে শিক্ষকদের মনে সংশয় রয়েই গেল।

তাই তাদের হৃদয় কাদছে উচ্চতর স্কেল না পাওয়ার বেদনায় । একই সাথে চাকুরী তে প্রবেশ করে কেউ পাচ্ছে ১৬০০০/-স্কেল আর কেউ পাচ্ছে ২২০০০/- স্কেল। এ যে কী পীড়ন তা বোঝানো যায় না। অথচ উচ্চতর স্কেল ( আগেকার টাইম স্কেল )তাদের বৈধ পাওনা। এটা তাদের কর্মের স্বীকৃতি। তাদের কাজের অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি। এখানে যারা কর্মরত তারা সরকারি বিধি বিধান মেনে নিয়োগ পেয়েছেন ।

গত ২৪ নভেম্বর মাউশিতে এক এমপিও সভায় উচ্চতর স্কেলের এক নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাধুবাদ জানাই এমন সিদ্ধানের জন্য। দেশের হাজার হাজার শিক্ষকরা আশারবাণী দেখতে পাচ্ছেন হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত উচ্চতর স্কেল
পেয়ে যাবেন। এ ব্যাপারে সরকার ও আন্তরিক।

আমরা এখন ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য । তথ্যপ্রযুক্তি এখন আমাদের শিরায় শিরায় পৌছে যাচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বে লক্ষ্য করেছি শিক্ষরা তাদের বিএড অথবা টাইম স্কেল পাওয়ার জন্য উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক কার্যালয়ে কত হয়রানির স্বীকার হতে হচ্ছে। সংগ্রহ করতে হয় চাকুরী জীবনের সমস্ত এম.পিও কপি সহ নানান ধরনের কাগজ পত্র।আবেদন করার পরেও নানান জঠিলতার জন্য কেটে গেছে মাসের পর মাস।অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এক ক্লিকেই শিক্ষকদের সমস্ত ডাটা বের করা যায়।

তাই ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধির যেমন স্বয়ংক্রিয় ভাবে প্রদান করা হয়েছে ঠিক তেমনি ২০১৮ সালের যে এম.পিও নীতিমালা সংশোধন হচ্ছে তাতে স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর স্কেলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি করা এখন সময়ের দাবি।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়, বেসরকারি শিক্ষদের উচ্চতর স্কেলের এ সমস্যার সুরাহা করবেন এটা বেসরকারি শিক্ষক সমাজের আপনার কাছে প্রত্যাশা।

লেখকঃ ফারুক আহাম্মেদ,
বাকলজোড়া নয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, দুর্গাপুর, নেত্রকোণা।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে কোতোয়ালীর অভিযানে পরোয়ানাসহ গ্রেফতার-৭